সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের রপ্তানীমুখী আদমজী ইপিজেডের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা তাদের জমাকতৃ ফান্ডের টাকা ও বকেয়া বেতনের দাবিতে গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-শিমরাইল সড়ক আবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। ফলে সকাল থেকেই ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে সর্বসাধারনকে । শ্রমিকরা জানায়, আদমজী ইপিজেডের সাবেক প্যাশন সিটি বর্তমানে কুনতুম এ্যাপারেলস লিমিটেড নামক পোশাক কারখানাটির মালিকপক্ষ কর্মরত শ্রমিকদের কোন নোটিশ না দিয়ে হঠাৎ করে গত ১০ আগষ্ট হঠাৎ দুই দিনের ছুটি ঘোষণা দিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেয়। সেই বন্ধ গড়াতে গড়াতে এক সময় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় কারখানাটি।তবে বন্ধ হওয়ার পরেও পরবর্তীতে শ্রমিকদের আন্দোলনের চাপে পড়ে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ৫ হাজার টাকা করে পাঁচ মাসের বেতন পরিশোধ করে আবারও বেতন বন্ধ করে দেয় কারখানাটি।আন্দোলনরত শ্রমিক শিউলি, সালমা, সাদিয়া বলেন, আমরা আমাদের বকেয়া বেতন ও জমাকৃত (ফান্ডের জমাকৃত টাকা) টাকা চাইতে গেলে গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ৬ সহস্রাধিক শ্রমিক গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে আদমজী ইপিজেডের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। সেখানে তাদের সাথে আনসার ও ইপিজেডের নিরাপত্তা কর্মীরা অশালীন ব্যবহার করে বলে অভিযোগ করেন তারা। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা নারায়ণগঞ্জ শিমরাইল সড়ক অবরোধ করে বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। সড়ক অবরোধের কারণে শিমরাইল- আদমজী -নারায়ণগঞ্জ সড়কে ৬ ঘন্টা সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।এ বিষয়ে আদমজী ইপিজেডের জিএম আহসান কবির জানান, টাকা পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকরা রাস্তায় অবস্থান নেয়। গার্মেন্ট মালিক পক্ষ আগামী ১২ জুন শ্রমিকদের সমুদয় টাকা পরিশোধ করার আশ্বাস দিয়েছেন। গার্মেন্ট মালিকপক্ষের কথা মোতাবেক বেপজা কর্তৃপক্ষ বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা রাস্তা থেকে সরে যায়। নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ ৪ এর পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন জানায়, শ্রমিকরা তাদের বকেয়া টাকার দাবিতে আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ করলেও কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা হয়নি। তবে মালিক পক্ষ ১২ জুন টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা বেলা ১২ টার দিকে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে চলে যায়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, শ্রমিকরা তাদের বকেয়া পাওনাদির বিষেয়ে আন্দোলন করেছিল, মালিক পক্ষ টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা আন্দোলন বন্ধ করে যে যে যার মতো করে চলে গেছে কোন বিশৃঙ্খলা হয়নি।